স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেট এসএমপি’র শাহপরাণ (রহঃ) থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ডেভিলদের নিয়ে গোপন বৈঠকের বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি থানায় বসে রাতেই ডেভিলদের সঙ্গে নিয়ে এই গোপন বৈঠক করেন। এনিয়ে স্থানীয় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ড. ইউনূস সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিগত ১৭ জানুয়ারি রাত আনূমানিক সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত শাহপরাণ বাহুবল এলাকার বেশ কয়েকজন শীর্ষ ডেভিলদের নিয়ে থানায় বসে গোপন বৈঠক করেন ডেভিল গডফাদার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান। যা ওই থানার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। ডেভিলদের পক্ষে নেতৃত্বদেন বহর নোয়াগাঁও ৩৩ নং- ওয়ার্ডের শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতা মৃত বলরাম দেবনাথের ছেলে বীরেশ দেবনাথ সহ আরও একাধিক নেতা। আড়াল থেকে এই বৈঠকের আয়োজন করেন একই এলাকার প্রভাবশালী ডেভিল ধনঞ্জয় দেবনাথ ওরফে ধনাই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সনাতন ধর্মালম্বীদের ব্যাবহার করে স্থানীয় ভাবে হট্টগোল দেখিয়ে বিষয়টি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে চাউড় করার চেষ্টা করতে থাকেন। যেমন পরিকল্পনা ঠিক তেমনি কাজ করেছিলেন ওসি সহ ডেভিলরা। কিন্তু ভাটা পড়ে যায় সংবাদকর্মীদের নজরে আসায়। ঘটনার পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি ফেইসবুক পেজ থেকে লেখা হয়- সংকীর্তনে হামলা, ইউনূস-জামাতের নীরব আশ্রয়ে উগ্রবাদ এখন মকরসংক্রান্তির উৎসবকেও রেহাই দিচ্ছেনা! তার স্ক্রিনশট নিউজের সঙ্গে সংযুক্ত করা হইলো। এছাড়াও শীর্ষ দুই ডেভিলদের তৎকালীন সময়ের গণসংযোগসহ বিভিন্ন বৈঠকের ছবি জনসম্মূখে সংবাদে সংযুক্ত করা হলো।
ডেভিল গডফাদার ওসি মোস্তাফিজুর যখন বিষয়টি দেখলেন তার ক্ষমতার বাহিরে চলে যাচ্ছে ঠিক তখনি ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকলেন। বিগত ৫দিনের অনূসন্ধ্যানে বেরিয়ে আসলো এই ভয়াবহ তথ্য। সংখ্যালঘুদের নাম ব্যাবহার করে দেশে-বিদেশে প্রচার ঘটিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার গভীর চক্রান্ত অপচেষ্টার ষড়যন্ত্রের পাতানো ফাঁদ এর বিষয়টি নজরে আসেনি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। তবে ১৭ জানুয়ারি রাতেই এবিষয়ে মুঠোফোনে দক্ষিণের ডিসি নিজেও অবগত হোন। কিন্তিু যে লাউ সেই কদু! এ যেনো ৫ আগষ্টের চিরচেনা কথিত পুলিশ সদস্য ঘাপটি মেরে বসে আছে শাহপরাণ (রহঃ) থানায়। গোপন বৈঠকের বিষয়টি ঘন্টা দেড়েক এর মধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে রহস্যজনক কারনে আদৌ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরা নরিব!
অনূসন্ধ্যানে আরও জানা গেছে, ডেভিলদের দিয়েই কৌশলে ওই এলাকায় একটি হট্টগোল ঘটানো হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে তার নেপথ্যে ছিলেন ওসি মোস্তাফিজুর নিজেই। পরিকল্পনা অনুযায়ি আগে থেকেই তিনি যাতে ধরা না পড়েন সেই কৌশল অবলম্বন করে তাদের শেল্টার দেওয়ার জন্য জজ মিয়া নাটক (চক) তৈরি করে রাখেন। যা হার মানিয়েছে সাবেক আওয়ামী সরকারের খুন, গুমের সহযোগী পলাতক আসামি ঢাকা মেট্রো (ডিবি) পুলিশ সদস্য হারুনকেও।
এনিয়ে বীরেশ দেব নাথ এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন সময়ে সভা সমাবেশ করেছি। কিন্তু আমি ধর্মীয় সংঘটনের সাথে জড়িত রয়েছি, পারলে আপনি একবার দেখা করেন বলেই মুঠোফোন সংযোগ কেটে দেন। অপরদিকে ধনঞ্জয় দেব নাথ ধনাইয়ের মুঠোফোনে কল দিলে রিসিভ না হওয়ায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে শাহপরাণ (রহঃ) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যওয়ার চেষ্টা করে বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুটি পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে এই ঘটনায় কেউ ডেভিল থাকলে বলতে পারিনা বলেই সংযোগ কেটে দেন।
এনিয়ে মুঠোফোনে এসএমপি দক্ষিণের ডিসি’র সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ডেভিলদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপড় রয়েছে। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।
এদিকে অনূসন্ধ্যানে দেখা যায় শীর্ষ স্থানীয় ডেভিলদের পক্ষ নিয়ে সূষ্ট তদন্ত না করেই নিরপরাধ ব্যাক্তিদের জড়িয়ে তড়িঘড়ি করে একটি মামলা রুজু করেন ওসি মোস্তাফিজুর। কৌশলে যাতে তিনি নিজেকে আত্মরক্ষা করতে পারেন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সহজেই হাতের মুঠোয় রাখতে পারেন। অনুসন্ধ্যান চলমান। আরেকটি সূত্র প্রতিবেদক’কে নিশ্চিত করেছে একই ঘটনায় দুটি অভিযোগ ওসি’র টেবিলে দাখিল হলেও সেই অভিযোগে ডেভিলদের কথা উল্লেখ থাকায় আদৌ অভিযোগটি মামলায় রুপান্তরিত করা হয়নি। অথচ সেই অভিযোগখানা শাহপরাণ (রহঃ) থানায় দাখিলের পর পরই প্রেরণ করা হয় দক্ষিণের ডিসি ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের মুঠোফোন হোয়াটসঅ্যাপে।
এব্যপারে এসএমপির শাহ্পরান থানার অফিসার ইনচার্জ এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন।
মন্তব্য করুন