বিশেষ প্রতিনিধি : জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় হাওড়ের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৩৭টি প্রকল্পের মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ ফরিদ।
শনিবার সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী হাওড়ের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়নে কাবিটা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর। কিন্তু জগন্নাথপুরে সেই নিয়ম মানা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ নিজেই বেশিরভাগ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, পিআইসি কমিটির চেকবই, চেক বিলি রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তার কাছ থেকে নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ের নাজির মিজানুর রহমানের কাছে রাখা হয়েছে। এর ফলে তাকে পাশ কাটিয়ে আর্থিক লেনদেনসহ নানা অনিয়ম করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ১৫ নম্বর প্রকল্পে কমিটি অনুমোদন ও অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে ইউএনওর নাম ভাঙিয়ে নাজির মিজানুর রহমান ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ওই প্রকল্পে ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দুটি বিল উত্তোলনের সময় আরও আট হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মিন্টু মিয়া ও সদস্য সচিব হেলাল মিয়া গণমাধ্যমের কাছে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এদিকে ১ নম্বর প্রকল্প নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে আলা মিয়াকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হলেও পরে এক লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ তুলে তাকে সরিয়ে দিয়ে নতুন করে মোস্তাফিজুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সিদ্দিকুর রহমান ১, ৩০ ও ৩১ নম্বর—এই তিনটি প্রকল্প কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা স্থানীয় কৃষকদের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে ৮ ও ১৪ নম্বর প্রকল্পের কাগজপত্রে ভিন্ন ব্যক্তির নাম থাকলেও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন লিলু মিয়া নামের এক ইউপি সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে।
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম বকুলের বিরুদ্ধেও একাধিক প্রকল্প কমিটি গঠনে প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ১২ নম্বর প্রকল্পের কমিটি গঠনে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার ছেলে জুনায়েদ ইসলাম ৩ নম্বর প্রকল্পের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে প্রায় ২৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
ইউএনও কার্যালয়ের নাজির মিজানুর রহমানও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত নন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী তার কারিগরি ও দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করছেন। পিআইসি গঠন, বিলের এমবি প্রস্তুত ও চেক উপস্থাপন করার পর তিনি শুধু সভাপতি হিসেবে প্রতিস্বাক্ষর করেন। নাজিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান।
মন্তব্য করুন