ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সিলেট নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়তে থাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মন্ত্রী, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে ছিনতাইকারীরা।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর সাগরদিঘীরপাড় এলাকায় এক নারীকে লক্ষ্য করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়া ওই নারীকে একটি পালসার মোটরসাইকেলে এসে দুই যুবক ঘিরে ধরে। তাদের হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্র।
ছিনতাইকারীরা ওই নারীর মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা নারীর হাতে অস্ত্র দিয়ে কয়েকবার আঘাতও করে। তবে ব্যাগ ও মোবাইল নিতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত তার হাতঘড়ি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় তারা। জানা গেছে, আক্রান্ত নারী সিলেটের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় প্রকাশ্যে আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, হাউজিং এস্টেটের ভেতরের সড়ক দিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা যাওয়ার সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা ছয়জন ব্যক্তি অটোরিকশাটির গতিরোধ করে।
এরপর তাদের একজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে অটোরিকশার ভেতরে থাকা এক নারীর ব্যাগ ধরে টানাটানি শুরু করে। কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তির পর ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায় তারা। এ সময় অটোরিকশা থেকে নেমে ওই নারীকে চিৎকার করতে দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা ওই নারী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাসায় ফিরছিলেন। ছিনতাইকারীরা ব্যাগে থাকা নগদ টাকা ও চেক বইয়ের কয়েকটি পাতা ছিনিয়ে নেয়।
তবে এসব ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি এসব ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক মদদের অভিযোগও উঠছে বিভিন্ন মহলে।
এদিকে শুক্রবার সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
শনিবার সিলেটে এসে সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার ও এসব ঘটনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে যারা জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে।”
ওই অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমরা শান্তির সিলেট চাই। তাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে।”
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে এবং এমন ঘটনা প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হাউজিং এস্টেট এলাকার ঘটনার বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তারা বর্তমানে নগরের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসএমপির কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির জানান, সাগরদিঘীরপাড়ের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা চলছে। আক্রান্ত নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ছিনতাইকারীরা কিছু নিতে না পারায় তিনি মামলা করতে চাননি। তবুও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তারা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।
মন্তব্য করুন