শাহান আহমেদ চৌধুরী ::
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ১৮ দিন বাকি। নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগজুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। বিভাগের ১৯টি আসনের প্রায় সবগুলোতেই এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা ঘরে ঘরে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এবার সিলেট বিভাগে নির্বাচনি মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে। তবে বিভিন্ন আসনে বিএনপির দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনি সমীকরণকে জটিল করে তুলেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মাঠের রাজনীতিতে উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মর্যাদার আসন হিসেবে পরিচিত সিলেট-১ আসন থেকেই বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটে এসে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন। এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সিলেট বিভাগের পাঁচজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে দল। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে প্রচারণা শুরু করেছেন। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভা শেষে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা দেখা গেছে।
নির্বাচনি কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য সিলেট জেলার ছয়টি আসনে বিএনপির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
এদিকে সিলেট-১ আসনে বিএনপি ও ধানের শীষের প্রার্থী, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির শাহজালাল উপশহর থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। শুক্রবার বায়তুন নাজাত জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তিনি বলেন, ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশে একটি কল্যাণমুখী সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন তার নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ।
মন্তব্য করুন