টুডেসিলেট ডেক্স::
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ জোরদার করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়নের লক্ষ্যে সিলেটসহ দেশের ৬৪ জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন (ইইউ ইওএম)।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে এসব পর্যবেক্ষক আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠপর্যায়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করবেন। এ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইইউ ইওএমের উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইনতা লাসে বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন প্রস্তুত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করে। এর মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হয়। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ঢাকাভিত্তিক মূল বিশেষজ্ঞ দলের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।
ইনতা লাসে জানান, পর্যবেক্ষকেরা দুই সদস্যের দলে বিভক্ত হয়ে নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কাজ করবেন। এ সময় তারা ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি নাগরিক পর্যবেক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং তরুণ কর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। এসব কার্যক্রম শুধু বড় শহরে নয়, ছোট শহর ও গ্রাম পর্যায়েও পরিচালিত হবে।
ইইউ কর্মকর্তারা জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকেও পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর আগে তাদের বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনগত কাঠামো, গণমাধ্যম পরিবেশ এবং সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণেই এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন মোতায়েন করা হয়েছে। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইইয়াবস। তিনি গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের কার্যক্রম ততই জোরদার করা হবে। সে সময় আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মাঠে নামবেন। তাদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকেরাও যুক্ত হবেন। তারা ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফল সংকলন প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।
এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদলও এই মিশনে অংশ নেবে। সব মিলিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনে ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন।
ইইউ ইওএম আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী নির্বাচনের জন্য সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। উভয় প্রতিবেদনই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত থাকবে।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন একটি কঠোর আচরণবিধি অনুসরণ করে কাজ করে। নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করাই মিশনের মূল নীতি। ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গৃহীত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালার ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মিশন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মন্তব্য করুন