টুডে সিলেট ডেস্ক
প্রকাশ : Jan 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কুয়াশা, শীত আর শ্রমিক সংকট—সব বাধা পেরিয়ে জগন্নাথপুরে বোরো আবাদ


 মজুরি-ট্রাক্টর ভাড়া বাড়লেও হাওরে বোরো আবাদে   দমেনি কৃষকেরা...৷ 


মোঃ মীরজাহান মিজান
বিশেষ প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশাকে উপেক্ষা করে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। হাওর এলাকায় যেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে জমি আবাদ। কার আগে কে জমিতে ধান রোপণ করবেন—এ নিয়ে হাওরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নীরব প্রতিযোগিতা।
হাওরের মাঠে দেখা গেছে, কেউ জমি হালচাষে ব্যস্ত, কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউবা পানির ব্যবস্থা করে ধানচারা রোপণে নেমেছেন। তবে প্রচণ্ড শীতের কারণে দিনমজুর শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এতে শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। গত মৌসুমে যেখানে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ছিল ৪ থেকে ৫শ টাকা, সেখানে এবার তা বেড়ে ৬ থেকে ৭শ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাড়তি মজুরি দিয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ার কথা জানান কৃষক আনোয়ার মিয়া ও এনামুল হক। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশু সদস্যদের নিয়েই মাঠে কাজ করছেন।
এদিকে জমি হালচাষের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চালকেরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত বছর প্রতি কেয়ার জমি হালচাষে যেখানে খরচ ছিল ৫ থেকে ৬শ টাকা, সেখানে এবার তা বেড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। তবুও সময়মতো জমি প্রস্তুতের আশায় ট্রাক্টরের জন্য অপেক্ষায় থাকছেন কৃষকেরা।
আরেক বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে পানি সংকট। হাওর এলাকায় সব জমি সমতল না হওয়ায় উঁচু জমিতে পানি পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে অনেকেই অতিরিক্ত খরচে দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচযন্ত্র বসিয়ে পানি এনে জমি চাষের উপযোগী করছেন।
৭ জানুয়ারি বুধবার উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কৃষকেরা বোরো আবাদে দমে যাননি। শীতকে হার মানিয়ে মাঠে নেমেছেন তারা।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে কিছুটা ধীরগতিতে হলেও বোরো আবাদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে রোপণের গতি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার নলুয়ার হাওরসহ মোট ১২টি হাওর ও নন-হাওর এলাকায় ২০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে হাওর এলাকায় প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং নন-হাওর এলাকায় ৫০ শতাংশ জমিতে ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকৃতি সহায় হলে আগামী বৈশাখে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষি বিভাগ।
চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫১০ মেট্রিক টন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ

1

ছাতক পৌর যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার,কারাগা‌রে প্রেরন

2

জগন্নাথপুরে অগ্নিকান্ডে ৭ দোকান পুড়ে ছাই, রাস্তার করুণ দশায়

3

আটকের ১৪ ঘণ্টা পর জামিন পেলেন মাহদী হাসান

4

ছাতক থানা ওসির সাথে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ন

5

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রেসক্লাব এর

6

হাকালুকি হাওরে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান: ১০০০ মিটার বেড়

7

দারুল মিল্লাত জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও আবরু মিয়া-খুরশেদা ব

8

চট্টগ্রাম–সিলেটের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা জানিয়েছে আবহা

9

২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

10

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

11

৬ মাস আগে বিয়ে করেন পাইলট সাগর

12

স্বীকার করছি আমি ডামি নির্বাচন করেছি: আউয়াল

13

ছাতকে ইসলামী ছাত্র মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

14

ওসমানী মেডিকেল এলাকায় রিক্সাচালক-অটোরিক্সা চালক সংঘর্ষ

15

কুয়াশা, শীত আর শ্রমিক সংকট—সব বাধা পেরিয়ে জগন্নাথপুরে বোরো আ

16

ফ্যাসিবাদ বন্ধে পিআর পদ্ধতির নির্বাচন উত্তম: চরমোনাই পির

17

সিলেটে রিকশাচালকের আত্মাহুতি: গায়ে পেট্রল ঢেলে মৃত্যু

18

মেরিট গার্ডেন গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিয

19

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রফিক গ্রেফতার

20