সিলেট নগরীর জালালাবাদ থানায় দায়ের করা একটি ক্লুলেস হত্যা মামলায় নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) নগরীর সোনারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জালালাবাদ থানার বড়ফৌদ এলাকার মহরম আলীর ছেলে আব্দুল মতিন (৪৫) এবং নগরীর সোনারপাড়া এলাকার নবারুন ২০১ নম্বর বাসার বাসিন্দা খালেদা বেগম (৩২)। খালেদা বেগম কোম্পানীগঞ্জ থানার দলইরগাঁও এলাকার ইসমাইল আলীর স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, প্রতারণা ও মা-মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার বড়শালা মংলিপাড় এলাকার আমীর আলীর ছেলে শোয়েবুর রহমান ওরফে শিহাব ওরফে রাজ (৩০) হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তিনি খালেদা বেগমের বাসায় থেকে তার সন্তানদের আরবি পড়াতেন।
জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে জালালাবাদ থানার হাটখোলা ইউনিয়নের উমাইরগাঁও এলাকায় বাদেশ্বর নদীর উত্তর পাড়ে কুড়াইল হাওড়ের বেতের ঝোপ থেকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি শোয়েবুর রহমান।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সয়াইবুর রহমান জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
থানাপুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে শোয়েবুর রহমান খালেদা বেগমের বাসায় তার সন্তানদের আরবি পড়াতেন। খালেদা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় শোয়েবুর বাসার সার্বিক বিষয়াদিও দেখাশোনা করতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
শোয়েবুর রহমান খালেদা বেগমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে শিবগঞ্জ উপশহর এলাকায় একটি প্লট যৌথভাবে কেনার পরিকল্পনা করেন এবং ২০ লাখ টাকা বায়না করান। পরবর্তীতে পর্তুগাল ও লন্ডনে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জমির বায়নার টাকা ও খালেদা বেগমের প্রায় ৭ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির অর্থসহ বিভিন্ন সময়ে মোট প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
একপর্যায়ে বিদেশে নেওয়ার জন্য চাপ দিলে শোয়েবুর খালেদা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। একইসঙ্গে তার মেয়ের সঙ্গেও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে।
এই ঘটনার জেরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শোয়েবুর রহমানকে বাদেশ্বর নদীর পাশে কুড়াইল হাওড়ের বেতের ঝোপে নিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ বিবস্ত্র করে মুখসহ শরীরের অর্ধাংশ বস্তা দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতকরা।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন