মো আল আমিন
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হলুদ রঙের গালিচায় মোড়ানো সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওড়াঞ্চল। সরিষা ফুলের ম-ম গন্ধে মৌ মৌ করছে চারপাশের ফসলের প্রান্তর। ‘ফাও’ ফসল হিসেবে পরিচিত স্বল্প ব্যয় ও অধিক লাভজনক তেলবীজ ফসল সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষক-কৃষানির মুখে এখন স্বস্তির হাসি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর মধ্যনগর উপজেলায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে মধ্যনগরে সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ও দক্ষিণ, চামরদানী এবং মধ্যনগর সদর ইউনিয়নসহ হাওড়, খাল-বিল ও নদীপাড়ঘেঁষা বিস্তীর্ণ এলাকায় মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের সমারোহ দেখা গেছে। চোখ জুড়ানো এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের আনাগোনাও বেড়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধানসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদনে খরচ বেড়ে গেলেও অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। এতে লোকসানের ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে তুলনামূলক কম খরচে, অল্প সময়ে উৎপাদনযোগ্য এবং ভালো দামে বিক্রিযোগ্য হওয়ায় সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এর ফলে চলতি মৌসুমে মধ্যনগরের পতিত ও হাওড়পাড়ের জমিতে সরিষার আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর কার্তিক মাসের শেষ দিকে সরিষার আবাদ শুরু হয়ে পৌষ মাসের মাঝামাঝি ফসল ঘরে তোলা হয়। বাজারজাতের আগেই সরিষার ফুল দিয়ে বড়া এবং পাতা শাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ফসল কাটার পর শুকনো সরিষা গাছের কাণ্ড জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করে কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকমল হোসেন জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকলে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন আশা করা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, কৃষি প্রণোদনার আওতায় সার ও বীজ সঠিক সময়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে চাষাবাদে কোনো ভোগান্তি হয়নি। প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা সরিষার ভালো ফলন পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন