স্টাফ রিপোর্টার ::
যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এয়ারপোর্ট থানাধীন ৩ নং খাদিম নগর ইউপির,বড়শলা এলাকার ফরিদাবাদে মাদ্রাসার দক্ষিন পার্শ্বে জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীরের পার্শ্বে গর্ত করে মাটি মাটি সরিয়ে দেওয়াল ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ।
জানা যায়, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মারুফ আহমদ ও মঞ্জুর আহমদ গং মেসার্স এইচ.এম এগ্রো ফার্ম ও ফরিদাবাদ মাদ্রাসার ভুমির মালিক।
মারুফ আহমেদ এর কেয়ারটেকার নাহিদ আহমদ জানান, গত ১১ফেব্রুয়ারী বুধবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উক্ত ভুমিতে রক্ষনাবেক্ষনের কাজে ছিলেন ।আচমকা বড়শালা এলাকার উস্তার মিয়ার ছেলে লুৎফুর, আমির আলীর ছেলে শাকিল আহমদ রাহুল ও মৃত জিয়া উদ্দিনের ছেলে শামীম উদ্দিন এর নির্দেশ ১০/১২ জনের একটি অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র সজ্জা সজ্জিত হয়ে ফরিদাবাদ মাদ্রাসার কাঁটাতারের সীমানার ভিতরে ডুকে জোর পুর্বক সীমানা প্রাচীরের নিচে গর্ত খুঁড়ে মাটি সরাতে থাকে এবং গাছপালা কাটতে থাকে।
এসময় কেয়ারটেকার নাহিদ ও আজিজ তাদের অনৈতিক কাজে বাঁধা দিলে উক্ত সন্ত্রাসীরা তাদেরকে প্রাণে হত্যার হুমকি দেয় । নাহিদ তাৎক্ষণিক ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে এইচ এম এগ্রো ফার্মের আইন উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মিসবাউল ইসলাম কয়েস সাহেবের মোবাইলে পাঠালে তিনি বিষয়টি তাৎক্ষনিক এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে নাহিদ ও আজিজ তাদের অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের কথা পুলিশকে অবহিত করেন । পুলিশ লুৎফর ও শাকিলকে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে মাটি খোঁড়ার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে উভয় পক্ষ রাত ৮ টার সময় জমির কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হওয়ার অনুরোধ করেন।
পরবর্তীতে পুলিশ চলে যাওয়ার পর উক্ত সন্ত্রাসীরা আবারো এসে মাদ্রাসা কেন্টিনের সম্মুখে আজিজকে একা পেয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করলে তার শোর চিৎকারে নাহিদ ও এলাকার লোকজন ছুটে আসলে লুৎফর ও শাকিল নাহিদ এর হাতে থাকা মোবাইল এর মডেল নাম্বার (টেকনো ৩/৩২ র্যাম) মূল্য ১২,০০০/-(বার হাজার) টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে নাহিদ আহমদ বাদী হয়ে লুৎফর রহমান গংদের বিরুদ্ধে এস,এম,পির এয়ারপোর্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনায় নাহিদ ও আবদুল আজিজ জীবন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।যেকোন সময় সন্ত্রাসী লুৎফর বাহিনী তাদেরকে হত্যা করতে পারে।
এব্যাপার এয়ারপোর্ট থানার ওসি মুবাশ্বির আলির মুঠোফোনে কল দিয়ে ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা সাথে আলাপ করুন।
উল্লেখ্য ঘটনাস্থলের জমির উপর স্বত্ব ১৮৮/২২ ইং এবং বিবিধ ২৭/২০২২ ইং মোকদ্দমায় উক্ত শামিম উদ্দিন গং এর বিরুদ্ধে মাননীয় সিনিয়র সহকারী জজ বিয়ানীবাজার আদালত, সিলেটে বিচারাধীন রয়েছে। উক্ত ভূমিতে কোন প্রকার কাজকর্ম না করার জন্য উক্ত মোকদ্দমায় ২০১৬ ইং থেকে স্থিতাবস্থার আদেশ বহাল আছে। কিন্তু শামি উদ্দিন আদালতের আদেশ অমান্য করে সন্ত্রাসী বাহিনী হায়ার করে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকায় খবর নিয়ে জানা গেছে
এইচএম এগ্রো ফার্ম ও ফরিদাবাদ মাদ্রাসার দক্ষিণ পশ্চিম পাশে যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামিম উদ্দিনের বাড়ি । শামিম উদ্দিন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার জন্য ফেনসিডিল ইয়াবা ব্যবসায়ী ও একাধিক মামলার আসামি লুৎফর, শাকিলকে তাহার বাড়িতে থাকার জায়গা দিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেছেন। লুৎফুর এর নেতৃত্বে এই সন্ত্রাস বাহিনী দিনে দুপুরে ফরিদাবাদ আবাসিক এলাকায় নির্মাণাধীন প্লটের রড ,সিমেন্ট ইট , লুটপাট করে নিয়ে যায় কেউ বাধা দিলে তাদেরকে মারধর করে রক্তাক্ত করে, লুৎফরগং এর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থানায় থাকার পরও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না কারণ লুৎফুরগং এর পক্ষে যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামিম উদ্দিন উক্ত সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার হলে নিজ খরচে ও তদবির করে থানা ও কোর্ট থেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন।
এইচএম এগ্রো ফার্ম, ফরিদাবাদ আবাসিক এলাকার আইন উপদেষ্টা এডভোকেট মোঃ মিসবা উল ইসলামকে ফোন করলে তিনি জানান শামিম উদ্দিনগং এর বিরুদ্ধে এইচএম এগ্রো ফার্ম এর পক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা করার কারণে, শামিম উদ্দিন তাহার অপকর্মের সহযোগীদেরকে দিয়ে ২০১৬ সাল থেকে ২০২৪ সালের ০৫ আগস্ট পর্যন্ত এডভোকেট মিসবা উল ইসলাম কয়েসকে জামায়তের নেতা/কর্মী সাজিয়ে এবং ২০২৪ এর ৫ আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগের নেতা সাজিয়ে একাধিক মামলায় নাম ঢুকিয়ে হয়রানি করেছে এবং পত্রিকায় মিথ্যা সাজানো সংবাদ লিখাইয়া এখনো হয়রানি করে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন