
মোঃ মীরজাহান মিজান
বিশেষ প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর অব্যাহত ভাঙনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সরু সড়ক দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ। যেকোনো সময় সড়কটি ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেছি বাজারের পশ্চিম পাশে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে জগন্নাথপুর–বড়ফেছি সড়কের একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সড়কটি সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২৮ জানুয়ারি বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়ফেছি বাজার এলাকায় নদীভাঙন রোধে ব্লক বসানোর কাজ চললেও এর পশ্চিম পাশের অংশে সড়কটি সরাসরি ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙতে ভাঙতে রাস্তাটি এতটাই সরু হয়ে গেছে যে তা এখন ঝুলে থাকার মতো অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় এই অংশটি নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। তবুও জীবিকা ও প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়েই চলাচল করছেন।
স্থানীয় পথচারী রহমত আলীসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঝুলে থাকা সড়কের অংশটি নদীতে ধসে পড়লে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
এদিকে, সড়কটি ব্যবহারকারী যানবাহনের চালক আমিন উদ্দিনসহ অন্যরা বলেন, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এ বিষয়টি জানা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জগন্নাথপুর উপজেলা কর্মকর্তা শেখ ফরিদ জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় ডাম্পিং পদ্ধতিতে কাজ চলছে। নদীগর্ভে জিও টেক্সটাইল বস্তাভর্তি মাটি ফেলা হচ্ছে। তবে বালু ও মাটির সংকটের কারণে কাজের গতি কিছুটা কম। তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই নদীভাঙনরোধের কাজ শেষ হবে। কাজ সম্পন্ন হলে সড়কটি আর ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকবে না।