
হাকীম নোমানী,
ছাতক(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
অনেকেই জানেন সংসদ নির্বাচন হবে, তবে একই দিনে আরেকটি ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে এ তথ্য তাদের কাছে নতুন। ভোটারদের বড় একটি অংশের ধারণা, তারা কেবল দলীয় প্রতীকে ভোট দেবেন; এর বাইরে অতিরিক্ত ভোটের বিষয়টি তাদের জানা নেই।
‘নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গণভোটের প্রচার চালাচ্ছি। সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজার এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। ওয়ার্ড পর্যায়ে মাইকিং করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সভায় আমি নিজেও গণভোটের বিষয়ে কথা বলছি। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই প্রচার অব্যাহত থাকবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ একই দিনে ‘গণভোট’ বা ‘হ্যাঁ–না’ ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনের গ্রামগঞ্জের অধিকাংশ সাধারণ ভোটারদের কাছে গণভোটের কোন ধারণা নেই বল্লেই চলে।
সরেজমিনে ঘুরে এবং সাধারণ নারী-পুরুষ ভোটারদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, গণভোট কী, কেন হবে কিংবা কীভাবে ভোট দিতে হবে এ বিষয়ে তাদের তেমন কোনো ধারণা নেই।
উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের জামুরাইল পালপুর গ্রামের বাসিন্দা রংমালা বিবি জানান হ্যাঁ-না ভোট কি আমি জানিনা,আমাকে এ ব্যাপারে কেউ বলেনি,অনুরুপভাবে চরমহল্লা ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, আমাদের গ্রামটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একটা দ্বীপের মতো। আমরা অনেক বিষয় থেকেই অবহেলিত। এবারের নির্বাচনে হ্যাঁ ভোট দেব নাকি না ভোট দেব এটাই জানি না। কেন হ্যাঁ বা কেন না, সে বিষয়েও আমাদের কোনো ধারণা নেই। চোখে পড়ার মতো কোনো প্রচারও দেখিনি।’ স্থানীয় শিক্ষকরাও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উপজেলার সমতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের একজন প্রভাষক বলেন, গণভোট নিয়ে তেমন কোনো প্রচারণা নেই। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ বা সচেতনতা তৈরি হয়নি।’
এদিকে গণভোটের প্রশ্ন প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্নটিকে জটিল ও সাধারণ মানুষের জন্য দুর্বোধ্য বলে সমালোচনা করা হচ্ছে। সংস্কার প্রস্তাব বা জুলাই সনদ সম্পর্কে অধিকাংশ ভোটারের স্পষ্ট ধারণা নেই। সচেতন মহলের মতে, ভোটারদের বোঝাতে ব্যাপক ও সহজ ভাষায় প্রচার চালানো জরুরি হলেও নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও সে উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে জোর নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চালালেও গণভোট নিয়ে তাদের নীরবতা লক্ষণীয়। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের নিজ নিজ প্রতীকে ভোট চাইছেন, কিন্তু হ্যাঁ-না এর ব্যালটে থাকা ভোট সম্পর্কে কোনো দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন না। এতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। তাই এবিষয়ে দ্রুত প্রচার প্রচারনা বৃদ্ধি অতি জরুরি।
প্রসঙ্গত, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবারের নির্বাচনের সঙ্গে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের ওপর এই গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে। প্রবর্তকদের দাবি, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে আগামী ৫০ বছর দেশে আর ফ্যাসিবাদ, গুম-খুনের মতো ঘটনা ঘটবে না। তবে এ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সিপিবি, বাসদসহ গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কয়েকটি দল জুলাই সনদে সই করেনি। তাদের মতে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেভাবে একাধিক সংস্কার প্রস্তাবকে একটি প্যাকেজে এনে ‘হ্যাঁ/না’ ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অগণতান্ত্রিক এবং এতে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ নেই। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে মানুষের আগ্রহ থাকলেও গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে আরও কার্যকর ও মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ প্রয়োজন। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই ‘হ্যাঁ–না’ ভোট অনেক ভোটারের কাছেই থেকে যাবে অজানা ও অর্থহীন।
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন।