
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণির ১৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার জন্য টেস্ট (প্রাক নির্বাচনী) পরীক্ষায় একাধিক বিষয় থেকে সাত বিষয় পর্যন্ত ফেল করে।
তারপরও এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের দাবিতে শিক্ষকদের চাপ প্রয়োগ করে কিন্তু শিক্ষকরা দাবি মেনে না নেওয়ায় অসদাচরণ করে স্কুলে তালা লাগিয়ে দেয় ওই শিক্ষার্থীরা।
এই ঘটনায় জড়িত ১৬ জন শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার স্কুল কতৃপক্ষ সভা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বহিস্কারের বিষয়টি গতকাল সোমবার ফেসবুকে প্রচার হলে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।
বহিস্কৃত শিক্ষার্থীরা হলো- আরিফ মিয়া, রাতুল ইসলাম ফাহিম, তারিকুল ইসলাম ফয়সাল, শাকিবুল হাসান, ইসমাইল হোসেন, ইমন হোসেন ইব্রাহিম, মোবারক আলী, আবু বক্কর সিদ্দিক নাঈম, আলী আজগর, শামীম মিয়া, আব্দুল হালিম, রুহুল আমিন, তারিকুল ইসকাল, রাশিদ মিয়া, মিফতাহুল ইসলাম শান্ত ও রেদুয়ান আহমদ।
জানা যায়, বহিস্কৃত ওই ১৬ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার জন্য টেস্ট (প্রাক নির্বাচনী) পরীক্ষায় একাধিক বিষয় থেকে সাত বিষয় পর্যন্ত ফেল করে। গত ৬ জানুয়ারি বুধবার সকালে উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজের ছেলে আরিফ মিয়ার নেতৃত্বে তারা এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে সুযোগ দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং স্কুলে তালা লাগিয়ে দেয়।
ওইদিন আরিফ মিয়া শিক্ষককে হুমকি দিয়ে বলেছিল, তাকে ও সহপাঠীদের সুযোগ না দিলে যারা এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছে তাদেরও যেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া না হয়। কাউতে সুযোগ দিলে স্কুলে তালা লাগিয়ে রাখবে। একপর্যায়ে তার নেতৃত্বে স্কুলের কক্ষগুলোতে তালা লাগিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। স্কুলে তালা দেওয়ার বিষয়টি ওই দিন বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিনা মমতাজ বলেন,‘ বহিস্কৃত ১৬ জন প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষায় (টেস্ট পরীক্ষায়) একাধিক বিষয়ে ফেল করেছে। আরিফ সাতটি বিষয়ে ফেল করেছে। পরীক্ষায় অংশ করার জন্য সে আরও কয়েক জন জোর করে ফরম পূরন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদেরকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে কয়েক জনকে সাথে করে নিয়ে এসে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং স্কুলের কক্ষ তালাবদ্ধ করে দেয়। বিষয়টি সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে অবগত করা হয়। পরে সভায় সিদ্ধান্ত হয় ওই দিনের ঘটনায় জন্য ১৬ জনকে স্কুল থেকে বহিস্কার করার জন্য। ৫ জন গুরুতর অপরাধ করায় সম্ভবত স্থায়ী বহিস্কার করা হবে। অন্যদের বিষয়ে লঘু শাস্তি দেওয়া (সাময়িক বহিস্কার) হতে পারে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থী আরিফের পিতা লক্ষীপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজ ওইদিন বলেছিলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
তিনি বলেন, আমি বিএনপির রাজনীতি করি, তবে ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, ‘ওই দিন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে স্কুলের তালা খোলা হয়। শিক্ষকদের সাথে ঔদ্ধত্যমূলক আচরণ করা জোর করে সুযোগ আদায়ে শিক্ষার্থীর ১৬ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। সবাইকেই স্কুল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে, তবে অপরাধ বিবেচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।