
দিরাই প্রতিনিধি :সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পাওনা ৫০০ টাকা নিয়ে মানসিক চাপে পড়ে বিষপানে জয় মহাপাত্র (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তিনি উপজেলার ভাঙাডহর গ্রামের লিটন মহাপাত্রের ছেলে।
শুক্রবার সকালে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয় মহাপাত্রের মৃত্যু হয়।নিহতের পিসতুতো ভাই অয়ন দাস জানান, ভাঙাডহর গ্রামের জয় মহাপাত্র বোরহানপুর গ্রামের মদরিস মিয়ার ছেলে মুদি দোকানদার আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় একটি মোবাইল ফোন কিনেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী নগদ দুই হাজার টাকা পরিশোধের পর বাকি টাকা প্রতি সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও শেষ কিস্তির ৫০০ টাকা দিতে দেরি হয়।গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জয় টাকা দিতে আমিরুল ইসলামের দোকানে গেলে সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং মোবাইলটি কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় আমিরুল জয়কে অপমানজনক কথা বলেন বলে পরিবারের দাবি। পরে জয় ওই দোকান থেকেই ইঁদুর মারার (বিষ) কিনে বাড়ি ফিরে যান।
অয়ন জানান, রাত সাড়ে সাতটার দিকে জয় বিষ খাওয়ার কথা স্বীকার করেন। এরপর দ্রুত তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটে রেফার করেন।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মনি রানী তালুকদার বলেন, আমি তখন ডিউটিতে ছিলাম। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সিলেটে রেফার করা হয়।
নিহতের স্বজন বাদল দাস জানান, খবর পেয়ে তিনি সিলেটে আসেন। কতোয়ালি থানার কাগজপত্র সম্পন্ন করে লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে।
জয়ের কাকা মিটু মহাপাত্র বলেন, আমরা সিলেটে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে জয়ের বাবার সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেব।
অভিযোগের বিষয়ে আমিরুল ইসলাম বলেন, জয়ের কাছে আমার মোবাইল বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা ও ফ্লেক্সিলোডের ৩০০ টাকা বাকি ছিল। টাকা দিতে না পারায় আমি মোবাইল ফেরত দিতে বলেছি। ইঁদুর মারার বিষ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। জয় আমার কাছে বিষ চাইলে আমি নাই বলি। এরপর সে দিরাই চলে যায়।
এদিকে জয়ের মা শেলী মহাপাত্র অভিযোগ করে বলেন, সকালে টাকা চাইলে না পেয়ে আমার ছেলের কাছ থেকে মোবাইল রেখে দেয়। পরে সিম চাইতে গেলে সন্ধ্যায় আসতে বলে। সন্ধ্যায় গেলে আমার ছেলেকে চর-থাপ্পড় মারে। আমার ছেলে ওই দোকান থেকেই বিষ খেয়ে এসেছে।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।