শুক্রবার , ২৪ নভেম্বর ২০২৩ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক‌্যাম্পাস
  5. খেলাধুলা
  6. ছাতক
  7. জাতীয়
  8. তথ্য প্রযুক্তি
  9. ফটো গ্যালারি
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. ভিডিও গ্যালারি
  13. মৌলভীবাজার
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল

বিয়ানীবাজারে হাত বাড়ালেই মাদকের ছড়াছড়ি, আরো ভয়ংকর জুয়ার রমরমা প্রতারণা 

প্রতিবেদক
Today Sylhet24
নভেম্বর ২৪, ২০২৩ ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

 

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ

সিলেটের বিয়ানীবাজারে হাত বাড়ালেই মাদকের ছড়াছড়ি, আরো ভয়ংকর জুয়ার রমরমা প্রতারণা, অসহায় সাধারন মানুষ দেখার কেউ নেই, এ যেন মাদক জুয়ার হরিলুট কারবার। সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, উপজেলার শেওলা ইউনিয়ন জুড়ে জুয়া ও মরণনেশা মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। ঐতিহ্যবাহী এই ইউনিয়নের ৪ ও ৬নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাজারে মাদক ও জুয়ার প্রতারণা আরো জমজমাট। বেচা-কেনার হিসাব থেকে শুরু করে সব কিছুই হয়ে থাকে সেখানে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা,হেরোইন, ফেনসিডিল,গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। জুয়া ও মাদকে আসক্ত হয়ে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় উঠতি বয়সী যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে, অথচ নজরদারী নেই পুলিশের।

সুত্রে জানাযায় কিছু চিহ্নিত মাদক ও জুয়ার কারবারি এ ব্যবসার সাথে জড়িত। দিনের পর দিন তারা এই নিষিদ্ধ কর্মকান্ড পুরোদমে চালিয়ে আসলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা প্রশাসনের। ফলে জুয়া ও মাদক কারবারিরা আরো বেপরোয়া হলেও থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শেওলা ইউনিয়নের চারাবই বাজারের শাহীন রেস্টুরেন্টের পিছনে-সামনে ভিতরে পর্দা ও বেড়া টানিয়ে চলছে রমরমা ক্যারম বোর্ড, তাস,গাফলা ও মোবাইল দিয়ে লুডু খেলার নামে জুয়া খেলা। আর ক্যারম ও গাফলা খেলতে স্কুল-কলেজের ছাএ ও সিএনজি অটোরিকশা চালকরা একধাপ এগিয়ে থাকে। খেলার ছলে তারাও জড়িয়ে পড়ছে জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে। এছাড়াও বিভিন্ন বয়সের যুবকরাও গাফলা ও ক্যারম খেলায় কোন অংশে কম নয়? পাশাপাশি চলে মরণব্যাধি মাদক ইয়াবা ও গাঁজা সেবন।

দিনের বেলায় এসব
জুয়ারী ও মাদক কারবারীদের তেমন একটা চোখে না পড়লেও সন্ধা নামতেই তাদের আনাগোনা বেশ লক্ষনীয়।

জানা গেছে, উপজেলার শেওলা ইউনিয়নে মাদক বেচা-কেনার নিরাপদ হাট বা মাদকের চিহ্নিত স্পট চারাবই বাজারের শাহীন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মোঃ ময়নুল ইসলাম। এটি চারাবই বাজারের দক্ষিণ দিকে বর্তমান আব্দুস সাত্তার মার্কেট। এখানে অচেনা বহিরাগতদের আনাগোনাও বেশ লক্ষনীয়। এখানেই মূলত মাদক কেনা-বেচার হিসাব থেকে শুরু করে সব ধরনের জুয়া খেলার রমরমা বাণিজ্য হয়ে থাকে।

এক সময় খুব শান্ত ও মনোরম পরিবেশ বিরাজ করতো সেখানে। কিন্তু, কিছু অসাধু বিপদগামী মানুষের কারণে দিন-দিন ওই এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এখন সেখানে জুয়া ও মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে।

কি নেই সেখানে! গাঁজা, মদ,ইয়াবা থেকে শুরু করে সব ধরনের মাদক সেবন ও বেচা-কেনা এবং জুয়া খেলা হয়ে থাকে। মাদক ব্যবসার শক্ত একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে চারাবই বাজারে। এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় কিছু চিহ্নিত অসাধু ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা। মাদক কারবারীদের অনেকেরই বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলাও রয়েছে বলে এই প্রতিবেদককে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সুশীল সমাজসহ স্থানীয় লোকজন ভয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ারীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন,উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের চারাবই বাজারটি এক সময় খুবই শান্ত ছিল।কিন্তু কালের বিবর্তনে বর্তমানে চারাবই বাজারটির এই স্থান ও পুরো বাজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কারণে দুর-দুরান্তের মানুষজনও এখানে আসেন। গেল বেশ কয়েক বছরের ব্যবধানে সেখানে ব্যবসার বিস্তার ঘটেছে। এই সুযোগে কিছু সুযোগ সন্ধানি দুস্কৃতকারীরা জুয়াখেলা ও মাদকের ভয়াবহ থাবা বসিয়েছে। এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেদেরকেও মাদক পরিবহন ও সরবরাহ কাজে ব্যবহার করছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

ধীরে-ধীরে ওই দুস্কৃতকারী চক্রটি মাদক কারবারিতে পরিণত হয়েছে। তাছাড়াও রাত যত গভীর হয় মাদক কারবারীদের চলাফেরাও বেড়ে যায় সেখানে।

স্থানীয়রা বলছেন,ঐএলাকায় কয়েকদিন প্রশাসনের কঠোর নজরদারী থাকলে মাদক ব্যবসার রহস্য বের হয়ে আসবে। ইতিমধ্যেই মাদক বিক্রির কাঁচা টাকায় অনেকেই অনেক সম্পদও গড়ে তুলেছে। কাঁড়ি-কাঁড়ি টাকা ভরছে তাদের পকেটে। এরা অবৈধ ব্যবসার বিপুল টাকা দিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটও গড়ে তুলেছে এলাকায়।তাদের রয়েছে বেশ কিছু বাহিনীও। কেউ জুয়ার বিরুদ্ধে কথা বললেই বাহিনীর লোকজন তেড়ে আসে প্রতিবাদকারীর দিকে।তাই,ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ,গত কয়েক বছর থেকে শাহীন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মোঃ ময়নুল ইসলাম মোঃ আব্দুস সত্তার মার্কেট করার পর থেকেই এ অবস্থায় দাড়িয়েছে, এর আগে এমন অবস্থা ছিল না। প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন ধরে দুস্কৃতকারী চিহ্নিত ব্যক্তিরা মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছে পাশাপাশি রমরমা জুয়া খেলার ব্যবসা।অথচ রহস্যজনক কারণে শেওলা ইউনিয়নের বিট অফিসার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের
ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। নাম প্রকাশে স্হানীয় লোকজন বলেন আমাদের ইউনিয়নের পৃর্বের বিট অফিসার’রা খুবই ভালো ছিলেন এবং আমাদের ইউনিয়নে এসব জুয়াখেলা ও মাদক চলতো না। স্থানীয় এলাকাবাসী প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশ প্রশাসনের কাছে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অবিলম্বে পরিচালনা করতে জোরদাবী জানিয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জকিগঞ্জ বিয়ানীবাজারের(সার্কেল)ইয়াহিয়া আল মামুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,জুয়া এবং মাদক নিয়ে কোন তথ্য থাকলে আমাকে যেকোন সময় জানাবেন। আমি ব্যবস্থা নিব।স্পেসিফিক তথ্য পেলে জানাবেন।কোন অবস্থাতে জুয়াড়ি ও মাদকাসক্তদের ছাড় দেয়া হবে না।
এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ ওসি দেবদুলাল ধর বলেন ‘থানার উদ্যোগে মাদক ব্যবসায়ী,মাদক সেবী এবং জুয়াড়ীদের আটক করতে রীতিমতো অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোথাও এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার খবর ফেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। অপরাধীদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।

সর্বশেষ - শীর্ষ সংবাদ