বুধবার , ১ নভেম্বর ২০২৩ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক‌্যাম্পাস
  5. খেলাধুলা
  6. ছাতক
  7. জাতীয়
  8. তথ্য প্রযুক্তি
  9. ফটো গ্যালারি
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. ভিডিও গ্যালারি
  13. মৌলভীবাজার
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল

জগন্নাথপুরে জাল দলিলে খেলার মাঠ জবর দখল করে ভবন নির্মান,স্থানীয়দের প্রতিবাদ

প্রতিবেদক
Today Sylhet24
নভেম্বর ১, ২০২৩ ২:০০ অপরাহ্ণ

 

নিজস্ব সংবাদদাতা:: প্রবাসী অধ্যুাষিত সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় জাল দলিলে খেলার মাঠ ও দোকান ঘর জোর পূর্বক জবর দখল করে ভবন নির্মানের অভিযোগ উঠেছে ভূমিখেকো করিম গংদের বিরোদ্ধে।

স্থানীয় সুত্রে জানাযায় জগন্নাথপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের ইসহাকপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল আজিজের পুত্র প্রভাবশালী ভূমিখেকো নুরুল করিম নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সরকারী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এলাকাবাসীর খেলারমাঠ দোকান ঘর বেআইনীভাবে জোর পূর্বক দখল করে ভবন নির্মান করছেন। এই ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে এলাকাবাসীর সাথে ঐ প্রভাবশালী ভূমিখেকোর বিরোধ চলছে। শুধু তাইনা যারা এই দখলের প্রতিবাদ করে সেই নিরীহ এলাকাবাসীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগও রয়েছে দখলবাজ করিমগংদের বিরোদ্ধে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে আবেদন নিবেদন করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেননা বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানাযায় এই এলাকার হিন্দু জমিদার বসন্ত কুমারী দত্ত গং এলাকার ইসহাকপুর, লুদুরপুর, ইনাতনগর, দূর্গাপুর, রতিয়ারপাড়া গ্রামবাসীকে ফুটবল খেলার মাঠ হিসেবে দান করা ভূমি জাল দলিল দেখিয়ে ২০০২ইং সালে জবর দখলে নেয় প্রভাবশালী নুরুল করিম গং। এ ব্যপারে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে নুরুল করিমের বন্ধুকের গুলিতে চিরতরে পঙ্গু হয়েযায় প্রতিবাদী যুবক ফারুক মিয়া। এ নিয়ে এলাকাবাসী ২০০৩ সালের ২৭ জুলাই বিচারের দাবীতে সিলেট প্রেসক্লাবে প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। তবুও কান্ত হয়নি নুরুল করিমগং।

খোজঁ নিয়ে জানাযায়, স্থানীয় ভবেরবাজার জামেমসজিদ ও ১৯৬২ইং সালে স্থাপিত জামেয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ ইমদাদিয়া টাইটেল মাদরাসা এরিয়ার অর্ন্তভূক্ত (খ) তপশিলের মৌজা ইসহাকপুর, জে এল নং ৭৪, এস এ খতিয়ান ১৬৩৭, দাগ নং ১৮৩১, আর এস ২০৮৮ দাগের ০.১০ একর ভূমি ১৬৪৩/০৪ ও ৩৬১৮/৭১ ইং দলিল নিজ নামে রেজিষ্টারী মূলে মালিক দেখিয়ে ১১৮৯/১৩.১৪ নামজারী মোকদ্দমা মূলে ভূঁয়া মালিকানা হাসিল করে নেন নুরুল করিমগং।

বিষয়টি এলাকাবাসী জানার পর ৭ জানুয়ারি ২০২০ইং সালে এলাকার সুনামধন্য দ্বীনি ইসলামী টাইটেল মাদরাসা, ভবেরবাজার জামে মসজিদের পক্ষে ইসহাকপুর, লুদুরপুর ও ইনাতনগর গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর ক্রমে ১০শতক ভূমি ধর্মীয় প্রতিষ্টানের স্বার্থে ব্যবহারের প্রয়োজনে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ( ভূমি) বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন।

সরেজমিন তদন্তে দেখাযায় এস এ ১৬৩৭নং খতিয়ানে ১৮৩১ নং দাগে ১.৪৭ একর লায়েক পতিত ভূমির মালিক হিন্দু জমিদার বিপুলানন্দ দত্ত গংরা। বর্তমান সেটেলমেন্ট জরিপে ২০৮৮ নং দাগে ০.১০ একর ভূমি ১নং খতিয়ানে লিপিবদ্ধ করা হয়। দলিল রেকর্ডরুম পর্যালোচনা করে দেখাযায় নামজারী হাসিলের লক্ষ্যে যে দলিল ব্যবহার করা হয়েছে ১৬৪৩/০৪ নং দলিলের মালিক ভিন্ন মৌজায় নলুয়া নোয়াগাও এর ক্রেতা মরহুম উস্তার উল্লার ছেলে হাজী ময়না মিয়া, জমি দাতা জগদীশপুর গ্রামের আব্বাস উল্লার ছেলে মাহমদ আলী, অপর ৩৬১৮/৭১ নং দলিল তৎকালীন সময়ে ১৯৪৭/৭১ ইং পর্যন্ত দলিল সম্পাদিত।

এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারী কর্মকর্তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে জাল ও ভূয়া দলিলের মাধ্যমে কিভাবে নামজারী হাসিল করে ভবন নির্মান ক্রমে প্রথমে আব্দুল আজিজ কিন্ডারগার্টেন, বর্তমানে গাড়ীর গ্যারেজ ও কাটমেস্তরীর ভাড়ায় চলছে দোকান কোটা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার গণ্যমান্য ও নামাজরত মুসল্লীরা বলেন মসজিদের দেওয়ালের পার্শ্ববর্তী গাড়ীর গ্যারেজ ও কাট মেস্তরীর কারখানা হওয়ায় গাড়ীর হর্ণ এবং কাট মেস্তরীর হাতুরী মেশিনের শব্দে ইসলামিক শিক্ষা গ্রহণকৃত মাদরাসা শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহনে বা নামাজরত মুসল্লীরা ইবাদত বন্দেগিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে বিধায় মাদরাসা এতিমখানা ও মসজিদের স্বার্থে ০.১০ একর ভূমি প্রয়োজন। এ ব্যপারে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর অতি প্রয়োজন মনে করেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগন্নাথপুর বরাবর যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্তা নেয়া হবে। বিগত ২০১৯ইং সালে ভূমিখেকো নুরুল করিম তাহার আপন খালাতো ভাই লুদুরপুর গ্রামের তখলিছ মিয়ার ছেলে উমর ইলিয়াছ আলীর ইলিয়াছ এন্টার প্রাইজ নামে ভবেরবাজারে দোকানঘর জোর দখলের চেষ্টা করলে নুরুল করিমের বিরোদ্ধে গত ২৮সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং তারিখে নিষেধাজ্ঞার দাবীতে সহকারী জজআদালত জগন্নাথপুর বরাবরে ২০/১৯ নং মামলা দায়ের করেন। মামলা আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত নোটিশ জারী করার পর জারীকারক গোপাল চন্দ্র দাস নোটিশ নিয়ে বিবাদী নুরুল করিমের বাড়ীতে গেলে নুরুল করিম রাগান্বিত হয়ে বলেন নোটিশ নিয়ে দৌড়ে চলে আসচিস “দেড় টাকা হলে জজরে কেনা যায়” বলে আচরণ করিলে ২ নং ওয়ার্ড কমিশনার, ভবেরবাজার কমিটির সেক্রেটারীকে অবগত করে ১৫মে ২০১৯ইং তারিখে নুরুল করিম কর্তৃক অপমানের ব্যখ্যা বর্ণনা করে একখানা রিপোর্ট পেশ করেন সহকারী জজ আদালত জগন্নাথপুর বরাবরে।তারপরও কান্ত হয়নি নুরুলকরিম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। ২০/১৯ নং মামলার মানিত স্বাক্ষী অএ গ্রামের আব্দুল কাহার স্বাক্ষী দেওয়ার পর থেকেই নুরুল করিম প্রবাসে থাকিয়া এবং তাহার
সাঙ্গপাঙ্গরা মোবাইলে ও ম্যাসেজের মাধ্যমে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি দিলে নিরুপায় হয়ে আব্দুল কাহার জগন্নাথপুর থানায় গত
২২ অক্টোবর ২০২৩ইং তারিখে জগন্নাথপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এএস আই ওবায়দুর রহমান অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সর্বশেষ - শীর্ষ সংবাদ

আপনার জন্য নির্বাচিত