নোটিশ:
প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, আগ্রহীগণ যোগাযোগ করুন!
এক মাস ধরে বন্ধ বন্দরবাজার-জিন্দাবাজার সড়ক, দুর্ভোগ

এক মাস ধরে বন্ধ বন্দরবাজার-জিন্দাবাজার সড়ক, দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সেতু সংস্কার কাজের কারণে একমাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে নগরীর ব্যস্ততম বন্দরবার-জিন্দাবাজার সড়ক। নগরীর প্রধান এই সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। এই সড়ক বন্ধ থাকার কারণে নগরীর অন্য সড়কগুলোতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। ফলে বাড়ছে যানজট।

নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, উন্নয়ন কাজের জন্য এই সড়কে আরো দেড় মাস যান চলাচল বন্ধ থাকবে। আর এই সড়কের যাত্রী-চালক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার।

নগরীর প্রধানতম বাণিজ্যিক এলাকা বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার। ফলে এই সড়কে সবসময়ই ভিড় লেগে থাকে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই সড়কের কাছাকাছি হওয়ায় নগরীর বেশিরভাগ মানুষকেই প্রায় প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। সেতু সংস্কার কাজের জন্য সড়কটি বন্ধ থাকায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। অপরদিকে, বাড়তি যানবাহনের চাপের কারণে নগরের অন্য সড়কে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বিশেষ করে কোর্ট পয়েন্ট, মধুবন মার্কেটের সামন থেকে ধোপদিঘির পাড় যাওয়ার সড়ক, তালতলা ও মির্জাজঙ্গল সড়ক, জিন্দাবাজার-বারুতখানা সড়ক, জল্লারপাড়-আম্বরখানা সড়কে দিনভর যানজট লেগে থাকে।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে জিন্দাবাজার সোনালী ব্যাংকের সামনে সেতু সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। ১০ মার্চ পর্যন্ত সেতুর একাংশের উপরিভাগের স্লেভ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। দু চার দিনের মধ্যে পথচারীদের জন্য সেতুর একাংশ খুলে দেওয়া হলেও যানবাহনের জন্য এই সড়ক উন্মোক্ত করতে আরো দেড় মাস সময় লাগবে। ঢালাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর ২৮ দিন রাখতে হয়। তাই কাজের স্থায়িত্বের জন্য আরো দেড়মাস যান চলাচল বন্ধ থাকবে এই সড়কে। সার্বিক কাজ শেষ হতেও আরো দেড় মাস সময় লাগবে বলে জানায় সিলেট সিটে করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই সড়ক বন্ধ হওয়ার কারণে জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। বিগত এক মাস যাবত বিকিকিনি অনেক কম বলে জানান ব্যবসায়িরা।

জিন্দাবাজারের বেশ কয়েকটি বিপনি বিতানের কর্মচারীরা জানান, এই সেতুর কাজ ধরার পর থেকেই ক্রেতারা কম আসছেন। কাজ কবে শেষ হবে এ সর্ম্পকেও অবগত নন তারা। মূলত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার কারণেই ক্রেতা সংকট হচ্ছে বলে জানান তারা।

জিন্দাবাজারের সিটি ম্যানশনের ব্যবসায়ি মো. শফিক আহমদ বলেন, আমরা ব্যবসায়িদের পাশাপাশি সাধারন জনগনেরও কষ্ট হচ্ছে এই উন্নয়ন কাজের জন্য। তবে এই সেতু করাটাও প্রয়োজন। এটা ঠিক না করলে বর্ষার সময় পাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবে এই কাজটা যত দ্রুত সম্ভব করা দরকার।

তিনি বলেন, সামনে রোজা ও ঈদ। ওই সময়ের আগে যদি কাজ শেষ না হয় তাহলে আমরা ব্যসায়িরা বিপাকে পরবো।

এই এলাকায় দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। যানবাহন বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছন্দা রানী দাস বলেন, রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছোটখাটো দূর্ঘটনাও হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের আশপাশে নির্মান কাজের সরঞ্জামাদি রাখার কারণে শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই কাজটা শেষ করা দরকার।

জালালাবাদ ট্রেডাসের কর্মকর্তা প্রাণ কৃষ্ণ দাস বলেন, আমাদের ডিজেল পেট্রোলের ব্যবসা। মটর সাইকেল ও যানবাহনই আমাদের ব্যবসার মূল উৎস। রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে বিগত ১ মাস যাবত ব্যবসা মান্দা।

তিনি বলেন, এই কাজটা যখন শুরু হয় তখন অনেক ধীর গতিতে করা হয়েছে। প্রথম দিকে মাত্র দুই থেকে তিনজন শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। প্রথম ধাপের কাজটা বেশি শ্রমিক দিয়ে করালে সময় আরো কম লাগত।

দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এই সড়কটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই পায়ে হেঁটে কাজ সারছেন বেশিরভাগ মানুষ। রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে হকাররাও সারা রাস্তা দখল করে নিয়েছে। তাই প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো পথচারী দূর্ঘটনার শিকার হন।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, জিন্দাবাজারের এই সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই উন্নয়ন কাজের জন্য জনসাধারণের অনেক কষ্ট হচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি। তবে কালভার্টের কাজটাও জরুরি। কারণ এই কালভার্টটি এখন না করলে বর্ষার সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। তখন এই এলাকার বাসিন্ধারা আরো বিপাকে পড়বেন।

তিনি বলেন, কালভার্টের সার্বিক কাজ শেষ হতে আরো দেড় মাস লাগবে। ইতিমধ্যে কালভার্টের বড় অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। টপ স্লেভ ঢালাই দেওয়া হয়ে গেছে। ঢালাইয়ের জন্য এই কাজের স্থায়িত্বের জন্য কমপক্ষে ২৮ দিন যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। তবে সপ্তাহ খানেক পরে পথচারীদের জন্য কালভার্টের একাংশ খুলে দেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2022 Todaysylhet24.com
Desing & Developed BY DHAKATECH.NET