নোটিশ:
প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, আগ্রহীগণ যোগাযোগ করুন!
ঈদযাত্রার ১২ দিনে সড়কে ঝরেছে ৩১১ প্রাণ

ঈদযাত্রার ১২ দিনে সড়কে ঝরেছে ৩১১ প্রাণ

ডেস্ক রিপোর্ট: ঈদুল আজহার আগে-পরে ১২ দিনে (৫-১৬ জুলাই) দেশে ২৭৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১ হাজার ১৯৭ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৪৩, শিশু ৫৮।
দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এ তথ্য তুলে ধরেছে। নয়টি জাতীয় দৈনিক, সাতটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদন দেয় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
প্রতিবেদনে গত চার বছরের ঈদুল আজহার যাত্রাকালের দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়। সে অনুযায়ী, এ বছর দুর্ঘটনা ও এতে নিহত ও আহতের সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ। ২০১৯ সালে ঈদযাত্রার সময় ১৪৬ দুর্ঘটনায় ১৯৭ জন নিহত হয়। পরের দুই বছরে নিহতের সংখ্যা ছিল ২২৯ ও ২০৭।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের জীবনে এখন নিত্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে মূলত সড়ক পরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার ঈদযাত্রায় ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয় ১২৩ জন, যা মোট নিহতের ৩৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৪৬ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, অর্থাৎ ১৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এই সময়ে ৯টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছে এবং ৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। ১৪টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছে।
যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র : দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ১২৩ জন (৩৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ), বাসযাত্রী ৩৩ জন (১০ দশমিক ৬১), ট্রাক-পিকআপ-লরি আরোহী ১৬ জন (৫ দশমিক ১৪ শতাংশ) বাস-প্রাইভেট কার যাত্রী ১৮ জন (৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজিচালিত অটোরিকশা-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৫৭ জন (১৮ দশিক ৩২ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নছিমন-আলমসাধু-টমটম-মাহিন্দ্রা-পাওয়ারটিলার) ১০ জন (৩ দশমিক ২১) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী ৮ জন (২ দশমিক ৫৭ শতাংশ) নিহত হয়েছে।
দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন : রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১০৯টি জাতীয় মহাসড়কে, ৭৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬১টি গ্রামীণ সড়কে এবং ২৭টি শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনাগুলোর ৭৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৯৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৫১টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৪২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত চালক ও আরোহীদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৩৪ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর এবং নিহত পথচারীদের ৩২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছে।
২০২১ সালের ঈদুল আজহা উদ্যাপনকালে ৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৯৫ জন নিহত হয়েছিল। এই হিসাবে এ বছর ঈদুল আজহায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং প্রাণহানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান : দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ আর প্রাণহানি ৩৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ঘটে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং প্রাণহানি ১৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিভাগে। আর এ বিভাগে প্রাণহানি ১১ দশমিক ৫৭ ভাগ।
বরিশালে দুর্ঘটনা ৫ দশমিক ৪৭ ভাগ, প্রাণহানি ৫ দশমিক ৪৬ ভাগ। সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪ দশমিক ৭৪ ভাগ এবং প্রাণহানি ৬ দশমিক ৭৫। রংপুরে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ৯৩ ভাগ, প্রাণহানি ৯ দশমিক ৩২। ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৫ দশমিক ১০ এবং প্রাণহানি ৫ দশমিক ৭৮ ভাগ।
ঈদযাত্রা ও দুর্ঘটনা পর্যালোচনা : এবারের ঈদুল আজহা উদ্যাপনকালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ২৬ জন নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনা ফিরতি যাত্রায় বেশি হয়েছে। গত বছরের ঈদুল আজহার চেয়ে এ বছরের ঈদুল আজহায় দুর্ঘটনা বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং প্রাণহানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা রোধে টেকসই সড়ক পরিবহন কৌশল প্রণয়ন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2022 Todaysylhet24.com
Desing & Developed BY DHAKATECH.NET